Daily Dhaka Star আমদানি নীতিমালার আওতায় ২৬ জানুয়ারি দেশের প্রায় ৮৪টি হলে মুক্তি পেয়েছে ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’। কিন্তু গত তিন দিনে ছবিটি তেম...
Daily Dhaka Star

আমদানি নীতিমালার আওতায় ২৬ জানুয়ারি দেশের প্রায় ৮৪টি হলে মুক্তি পেয়েছে ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’। কিন্তু গত তিন দিনে ছবিটি তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। একই অবস্থা হয়েছিল আমদানি নীতিমালায় আসা যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘ইয়েতি অভিযান’-এর ক্ষেত্রেও।
‘ছবি মোটামুটি ভালো চললে প্রতিদিন এক-দেড় লাখ টাকা আসে টিকিট বিক্রি থেকে। “ইন্সপেক্টর নটি কে” মুক্তির প্রথম দিন তিনটি শো থেকে এসেছে ৬৫ হাজার টাকার মতো।’ বললেন বলাকা হলের ব্যবস্থাপক আক্তার হোসেন। দ্বিতীয় দিনেও বলাকা হলে ভালো চলেনি ছবিটি। শনিবার টিকিট বিক্রি হয়েছে ৪২ হাজার টাকার। গতকাল রোববার আরও দর্শক কমে যাওয়ার খবর দিলেন আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, ‘যে অবস্থা দেখছি, মনে হচ্ছে বিক্রি ৩৫ হাজার টাকায় নেমে আসবে।’
রাজধানীর শ্যামলী সিনেপ্লেক্সেও একই চিত্র দেখা যায়। হলের ব্যবস্থাপক আহসানুল্লাহ বলেন, ‘প্রথম দিন দর্শক টানতে পারেনি ছবিটি। মাত্র ২৮ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। শনিবার বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজারের মতো। আজ (রোববার) ১২ হাজারের মতো হতে পারে।’ গত সেপ্টেম্বর মাসে ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’ ছবির শুটিং শুরু হয়। প্রথমে জাজ মাল্টিমিডিয়া ও জিৎ’স ফিল্ম ওয়ার্কসের যৌথ প্রযোজনায় ছবিটি নির্মিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিবারের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে যৌথ প্রযোজনার নতুন নীতিমালা তৈরির জটিলতায় পড়ে যায় ছবিটি। পরে জিৎ’স ফিল্ম ওয়ার্কসের একক ছবি হিসেবে প্রথমে ১৯ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পায়। এক সপ্তাহ পর ২৬ জানুয়ারি আমদানি করে বাংলাদেশে মুক্তি দেওয়া হয় ছবিটি।
অথচ বাংলাদেশ-ভারত দুই পক্ষের টাকাতেই তৈরি হয়েছে ছবিটি। ছবির কলকাতা অংশের প্রযোজক ও নায়ক জিৎ ঢাকায় প্রচারণায় এসে স্বীকারও করেন বিষয়টি। জিৎ বলেন, ‘ছবিটি যৌথ প্রযোজনাতেই হয়েছে, কিন্তু যৌথ প্রযোজনার হিসেবে মুক্তি দেওয়া যাচ্ছে না। ছবিটির কাজের শেষ পর্যায়ে এসে যে নতুন নীতিমালা পেয়েছে, তার সব শর্ত এই ছবিতে মানা সম্ভব হয়নি। এ কারণেই আমদানি নীতিমালায় যেতে হয়েছে আমাদের।’![]() |
একই ব্যাপার ঘটেছিল সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘ইয়েতি অভিযান’ ছবির ক্ষেত্রে। জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ভারতের ভেঙ্কটেশের যৌথ প্রযোজনায় ছবিটি নির্মিত হয়। কিন্তু নীতিমালা জটিলতায় পড়ে কলকাতার পর আমদানি নীতিমালায় বাংলাদেশে ছবিটি মুক্তি দেওয়া হয় গত বছরের ২৪ নভেম্বর। সে সময় ছবিটি দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়। এর আগে আমদানি করে যতগুলো ছবি মুক্তি পেয়েছে, সব ছবিই দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে। আমদানির ছবি মানেই বিদেশি ছবি-দর্শকদের মধ্যে এ ধরনের একটা মানসিকতা কাজ করে বলে জানান চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ভারতে মুক্তি পাওয়ার পর এসব ছবি ইতিমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে দর্শকের দেখা হয়ে যায়। অথচ যৌথ প্রযোজনার অন্তত চারটি ছবি ‘শিকারী’, ‘বাদশা’, ‘নবাব’ ও ‘বস ২’ বাংলাদেশ ও ভারতে একসঙ্গে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, আর দুই দেশেই ছবিগুলো ভালো ব্যবসা করে। এ ব্যাপারে প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও প্রযোজক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘যৌথ প্রযোজনার ছবি আমদানিতেও সমস্যা নেই। যদি একসঙ্গে দুই দেশে মুক্তির ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে এখানেও আমদানি নীতিমালায় মুক্তি পাওয়া ছবি দেখবেন দর্শকেরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দুই দেশে একসঙ্গে মুক্তি দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভালো ছবিও দর্শক নিচ্ছেন না।’ এতে করে এসব ছবির বাংলাদেশি অংশের প্রযোজক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ‘ইয়েতি অভিযা’ ও ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’ ছবি দুটির বাংলাদেশ অংশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ বলেন, ‘পরে মুক্তি পাওয়ায় বাংলাদেশে ইয়েতি অভিযান চলেনি। বড় ধরনের লোকসান হয়েছে ছবিটি থেকে। ইন্সপেক্টর নটি কেও যে খুব ভালো চলবে, বলা যাবে না। যৌথ প্রযোজনায় একসঙ্গে ছবিগুলো মুক্তি দিলে ভালো হতো।’

‘ইন্সপেক্টর নটি কে’তে অভিনয় করেছেন জিৎ ও নুসরাত ফারিয়া। এই জুটির আগের দুটি ছবি ‘বাদশা’ ও ‘বস ২ ’-এর কথা মনে করিয়ে দিয়ে আবদুল আজিজ বলেন, ‘যৌথ প্রযোজনার ব্যানারে দুই দেশে একসঙ্গে মুক্তির পরই ছবিগুলো থেকে ভালো ব্যবসা হয়েছে।’ এমন আরও দুটি ছবির ভাগ্যে একই পরিণতি হবে বলে মনে হচ্ছে। জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ভারতের রাজ চক্রবর্তী প্রোডাকশনস করছে নূর জাহান ছবিটি। বাংলাদেশের অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট ও ভারতের এসকে মুভিজ করছে ‘চালবাজ’। এই দুটি যৌথ প্রযোজনার ছবিও শেষ পর্যন্ত আমদানি নীতিমালায় মুক্তির সম্ভাবনা আছে। তবে প্রযোজক আবদুল আজিজ বললেন, ‘আগামী সপ্তাহে নূর জাহান ছবিটি যৌথ প্রযোজনার নতুন প্রিভিউ কমিটিতে জমা দেব। যদি যৌথ প্রযোজনায় ঝামেলা হয়, তাহলে আমদানি নীতিমালায় মুক্তি দিতে হবে। তবে ভারত ও বাংলাদেশে একসঙ্গে ছবিটি মুক্তি দিতে চাই।’
চিত্রনায়ক আলমগীর বলেন, ‘আমরা প্রচুর ছবি চাই। সেটা দেশীয় ছবির পাশাপাশি যৌথ প্রযোজনা বা আমদানি নীতিমালার মাধ্যমে যেভাবেই আসুক, অবশ্যই যেন নিয়মের মধ্যে হয়। আমদানি করা ছবির দাপ্তরিক কাজটা সহজ হলে নতুন ছবির ক্ষেত্রে দুই দেশে একসঙ্গে মুক্তি দেওয়া যায়। তাহলে এখানকার প্রযোজকেরা লোকসান এড়াতে পারবেন। আবার এটাও হতে পারে, দুই দেশের দাপ্তরিক সব কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছবিটি মুক্তিই দেওয়া হলো না। তাহলেও ছবিগুলো ব্যবসা করতে পারে।’

COMMENTS